কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৪ মাদক পাচারকারী আটক। এসময় কৌশলে পালিয়ে গেলো ৬ মাদক পাচারকারী
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে.কর্নেল আশিকুর রহমান শুক্রবার (১৭অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন,নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, টেকনাফ সদরের মেরিন ড্রাইভ এলাকা দিয়ে শাপলাপুর হতে টেকনাফ শিশুপার্ক এলাকার দিকে গমনকৃত একটি অটোরিক্সায় যাত্রীর বেশে মাদক কারবারীরা বিপুল পরিমাণ বাংলা মদ পরিবহন করবে। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও কারবারীদের অবৈধ কার্যক্রম নস্যাৎ করতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২বিজিবি) এর অধিনায়ক কয়েকটি চৌকস টহলদল মোতায়েনের মাধ্যমে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে লম্বরীঘাট
ও এর আশপাশের এলাকায় একাধিক টহল মোতায়েন পূর্বক নজরদারি জোরদার করা হয়।
উক্ত সময়ে লম্বরীঘাট এলাকায় যানবাহন তল্লাশীকালে একটি অটোরিক্সাযোগে একজন চালক এবং তিনজন আসনধারীকে রাস্তায় তল্লাশীর জন্য থামানোর প্রাক্কালে অটোরিক্সার পিছনের সিটে বসা দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এসময় টহল দলের সদস্যরা সন্দেহভাজন অটোরিক্সাটির সামনের এবং পিছনের সিটের নিচে তল্লাশি করে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় ২৪ লিটার বাংলা মদ উদ্ধার করা হয় এবং দুইজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন,আব্দুল মজিদ এর পুত্র
নুরুল আমিন, নুর আহম্মদ এর পুত্র শফিকুল।
এ সময় কৌশলে পালিয়ে গেল ৩ মাদক পাচারকারী।
অপর দিকে গ্রেফতারকৃত দুইজন আসামীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী অপর একটি অভিযানে টেকনাফ থানাধীন মেরিন ড্রাইভ রোড সংলগ্ন শাপলাপুর হতে সাবরাংগামী একটি অটোরিক্সায় যাত্রীর আড়ালে মাদক কারবারীদের মাদক পরিবহনের সময়, গত ১৪ অক্টোবর রাত ১০ টার দিকে তুলাতুলি ঘাট ও এর আশপাশে মোতায়েন করা বিজিবি টহলদল একটি অটোরিক্সা তুলাতুলি বিজিবি অস্থায়ী চেকপোস্টের কাছাকাছি আসলে থামানোর জন্য সংকেত দেয়। বিজিবি সদস্যদের দেখতে পেয়ে, রাস্তায় অটোরিক্সা থামিয়ে ২/৩ জন ব্যাক্তি দৌড়ে পালিয়ে গেলেও দুইজন বিজিবি’র টহল দলের কাছে ধরা পড়ে।
পরে, অটোরিক্সাটি তল্লাশি করে পিছনের সিটের নিচ থেকে বিশেষভাবে লুকানো ৪ লিটার বাংলা মদ উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন,সাবরাং মন্ডলপাড়া এলাকার
মো. কালুর পুত্র আক্তার হোসেন। একই ইউনিয়নের
করাচিপাড়া এলাকার আবুল হোসেন পুত্র মোঃ সোহেল। এ সময় কৌশলে পালিয়ে গেল ৩ মাদক পাচারকারী।
লে. কর্নেল আশিকুর রহমান আরও জানান,
এই সফল মাদকবিরোধী অভিযান সীমান্ত সুরক্ষা ও যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি’র জিরো টলারেন্স নীতির প্রতিফলন। যারা পলাতক,তাদের গ্রেপ্তারের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।