৫ নভেম্বর দুপুরে আমার ফাজিল প্রথম বর্ষের বাংলা পরীক্ষা উখিয়ার রাজাপালং ফাজিল মাদ্রাসায়।আমি পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছি সকালে।হ্নীলার রঙ্গীখালীর ব্রিজের নিচে দেখি ইউনুছ ভাইয়ের লাশ।তখন খুব বেশি খারাপ লাগছিলো।
এরপর পরীক্ষার দিকে মন না দিয়ে একেবারে মন দিয়ে দিয়েছি ইউনুছ ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করার জন্য। রঙ্গীখালী এলাকার আমার বন্ধু থেকে শুরু করে এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের ফোন দেওয়া শুরু করলাম।যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে একপর্যায়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রঙ্গীখালী এলাকার আমার এক বন্ধু আমাকে বললো ইউনুছ মেম্বার এবং মোঃ আলম প্রকাশ শফিয়া একসাথে ছিলো বিষয়টি লোকে মুখে শুনেছিলাম।রাতে রঙ্গীখালীতে গোলাগুলিও হয়েছে।এরপর ফোন দিলাম আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের এক দায়িত্বশীল কে।
ফোন রিসিভ করার পর তাকে বললাম আপনাদের সদস্য সচিব মোঃ আলম এর খোঁজখবর নেন।সে দায়িত্বশীল ১০/১৫ মিনিট পর ফোন দিয়ে আমাকে বললো,মোঃ আলম বাড়িতে নেই,তার মোবাইল ফোনও বন্ধ।অনেকেই বলেছে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।তাহলে বোঝা যায় মোঃ আমল নাটক সাজাচ্ছে।
এরপর আমি আবার আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের এক দায়িত্বশীল কে ফোন দিয়েছি।তার কাছ থেকে ঘাতক মোঃ আলমের ছবি সংগ্রহ করেছি। ইউনুছ ভাইকে হ’ত্যা’কাণ্ডে মোঃ আলম জড়িত আছে মর্মে আমার ফেসবুকে পোষ্ট করি।
দুই এক মিনিট পর সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সচেতনমহল আমার মেসেঞ্জার,ফোন নং,হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিয়ে বলতেছে ইউনুছ মেম্বার আর মোঃ আলমের বিষয় সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত না। আর আপনার উপর কোন অঘটন হয়ে যেতে পারে যেহেতু আপনি একা উখিয়ায়।তবে আমি তাদের বলেছি আমার নিরাপত্তার বিষয়টি আল্লাহ দেখবে। আমি সাংবাদিকসহ বিভিন্ন জনকে বলেছি হ্যাঁ আমি নিশ্চিত। ইউনুছ ভাইয়ের হ’ত্যা’কাণ্ডে মোঃ আলম জড়িত থাকতে পারে।যেহেতু ইউনুছ ভাই রাতে মোঃ আলমের সাথে ছিলো।
আমার রঙ্গীখালীর এক ভাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে গালাগালিও করতেছে,আপনি জানেন নাকি মোঃ আলম জড়িত আছে। আমি তাকে বলেছি অবশ্যই জড়িত থাকতে পারে, যেহেতু তারা দুজনই একসাথে ছিলো।
এরপর থেকে সর্বপ্রথম Teknaf24.Teknaf News71 Teknaf 71 Rupantor News সহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে রঙ্গীখালীর মোঃ আলম কে আইনের আওতায় আনা হলে সাবেক ইউনুছ মেম্বার হ’ত্যা’কাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হবে।
বিকেলে পরিক্ষা শেষে সাড়ে ৪ টার দিকে পরীক্ষার হল রুম থেকে বের হলাম এরপর ২০/২৫ মিনিট পর মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলাম ইউনুছ ভাইয়ের হত্যাকাণ্ড এবং ঘাতক মোঃ আলমের বিষয়টি জাতীয় গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
এদিকে যে বিএনপির জন্য আমাদের ইউনুছ মেম্বার দীর্ঘদিন পলাতক ছিলো,সেই বিএনপির নেতাকর্মীরা ইউনুস মেম্বার এবং ঘাতক আলম এর বিষয়টি টুকটাক জানার পরেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেনি এবং আমাদের সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতাও করেনি। ইউনুস মেম্বার এবং ঘাতক আলম এর বিষয়টি যারা পূর্ব থেকে জানে তাদের উচিত ছিলো ইউনুছ ভাইয়ের লাশ পাওয়ার পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করা।আর সাংবাদিক ভাইদের তথ্য সংগ্রহ করতেও সহজ হতো।
মহান আল্লাহ পাক মরহুম ইউনুছ ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক আমিন,আমি ইউনুছ ভাইয়ের হ’ত্যা’কারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চায়।
টেনশনে বাংলা পরীক্ষাও ভালো হয়নি আমার।দোয়া করবেন আমার জন্য।
লেনদেন থাকতে পারে এইটা স্বাভাবিক বিষয়।লেনদেন থাকলে কি মানুষ কে হ’ত্যা করতে হয়…?
আর প্রশাসনের উচিত ছিলো টাকার জন্য দায়িত্ব পালন না করা। জনগণের নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব পালন করা।