সাবরাংয়ে যুবক হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা ও দুই ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে আসামি,সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন ইউনিয়ন বিএনপির
টেকনাফ প্রতিনিধি।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের পুরান পাড়া এলাকার শফিউল্লাহ নামের এক যুবককে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ইউনিয়ন বিএনপির নেতা কামাল আহমদ ও তার দুই ছেলে আব্দুল্লাহ আল মোমান এবং আবু বক্কর কে পরিকল্পিতভাবে আসামি করা হয়েছে। এই মামলাকে “মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানবন্ধন করেছে এলাকাবাসী ও সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপি।
সোমবার বিকেলে সাবরাং ৬নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনসাধারণ *নয়াপাড়া বাজারে ঘন্টাব্যাপী এই মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানবন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কামাল আহমদের পরিবারকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, “আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীরা দ্রুত গ্রেফতার হোক এবং নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়।” তারা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জোর দাবি জানান।
মানবন্ধনে “মিথ্যাবাদীরা নিপাত যাক, ন্যায় বিচারের প্রতিষ্ঠা পাক” লেখা ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়। এসময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শাকের আলম জানান,”তাদের আপন চাচাতো ভাই সিফাত ইসমাইল এবং মামলার বাদী ছিদ্দিকের পরিবারের সাথে মারামারি হয়। মারামারির ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম। যদি আমি না থাকতাম আরও ৩/৪ টা খুন হতো। আমি তাদের আপন চাচাতো ভাইদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র দা-কিরিস কেড়ে নিয়েছি। কিন্তু ঘটনার সময় নিরীহ প্রতিবেশী বিএনপি নেতা কামাল এবং তাঁর দুই পুত্র মো. নোমান এবং আবুবক্করকে দেখিনি। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত কামনা করছি।”
সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মোঃ হাশেম ভুলু এবং সদস্য সচিব নুরুল আলম বলেন, “আমাদের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কামাল আহমদ ও তার দুই ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমরা ইউনিয়ন বিএনপি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিরাপরাধদের অব্যাহতি এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শুভ মিত্র তালুকদার বলেন, “মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”