কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকায় সরকার ঘোষিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাউল বিতরণে ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে আল্লাহর দান টু স্টার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও খাদ্যবান্ধব ডিলার আব্দু শুক্কুরের বিরুদ্ধে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অনিয়মের কারণে সুবিধাভোগী নিম্নআয়ের কার্ডধারীরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারীদের নির্দিষ্ট সময় অন্তর তিন দফায় কমমূল্যে চাউল দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
কিন্তু ঝিমংখালীর অধিকাংশ কার্ডধারী জানান, একাধিকবার বরাদ্দ এলেও অনেকে একবারও চাউল পাননি। আবার কেউ কেউ এক দফা চাউল পেলেও তাদের কাছ থেকে তিন দফায় গ্রহণের সাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি বেশ কয়েকজন কার্ডধারী জানান,তারা যখন চাউল পাওয়ার দাবি করেন তখন ডিলার আব্দু শুক্কুর নানা অজুহাত দেখান,কখনো বরাদ্দ কম এসেছে, কখনো ট্রাক পৌঁছায়নি,কখনো আবার তালিকা না পাওয়ার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেন। বাস্তবে বরাদ্দ ঠিকই এসেছে, অথচ তার বড় অংশ জনসাধারণের কাছে পৌঁছায় না বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
একাধিক কার্ডধারী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিয়মিত চাউল বিতরণের পরিবর্তে ডিলার বস্তা পরিবর্তন করে চাউল বাজারে বিক্রি করেন। সরকারি বস্তা থেকে চাউল অন্য বস্তায় ভরে গোপনে বাইরে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নতুন নয় বলে জানান স্থানীয়রা।এদিকে একজন বৃদ্ধা কার্ডধারী বলেন,সরকার গরিব মানুষের জন্য চাউল দেয়, কিন্তু আমরা পাই না। দোকানে গেলে ফাঁকা হাতে ফিরিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, অনেকের কাছ থেকে চাউল দেওয়ার কথা বলে কৌশলে কার্ড নিয়ে নেওয়া হয়। কার্ড দেওয়ার পর বিভিন্ন সময় টালবাহানা করে তা ফেরত না দিয়ে পরে নানা অজুহাতে তাদের চাউল বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও ডিলার আব্দু শুক্কুর এলাকায় তার প্রভাব খাটান। এতে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না।
এদিকে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, অতীতে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে অনিয়ম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক কার্ডধারী গত কয়েক দফায় মাত্র এক বা দুইবার চাউল পেয়েছেন। অনেকে জানান, তারা এক দফা চাউল পেলেও রেজিস্টারে তিন দফার স্বাক্ষর রয়েছে-যা অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ।
স্থানীয় ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি সুবিধা বঞ্চিতদের কাছে পৌঁছায় না এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে চাউল বিতরণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।