সাবরাং পূর্ব পুরান পাড়া এলাকায় চাচাতো ভাইদের হামলায় নিহত শফিউল্লাহর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নিরীহ প্রতিবেশী বিএনপি নেতা কামাল এর পরিবার কে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ,ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা
টেকনাফ২৪,ডেক্স
কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের পূর্ব পুরান পাড়া এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গত শনিবার বিকাল ৪টার দিকে আপন দুই ভাই মৌলভী জহির আহমদ এবং হাফেজ মোক্তার আহমদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় আপন চাচাতো ভাই ইসহাক এর স্ত্রী আসমার কাঠের তক্তার আঘাতে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র শফিউল্লাহ নিহত হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত শফিউল্লাহ পরিবার নিরীহ প্রতিবেশী বিএনপি নেতা কামাল এবং তাঁর দুই পুত্র মো.নোমান,কিশোর আবুবক্কর কে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে,বিষয়টি কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় এবং প্রত্যক্ষদর্শী আজম উল্লাহ সাংবাদিকদের জানান,তাদের আপন চাচাতো ভাইদের মারামারির ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম,সাবরাং ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কামাল এবং তাঁর দুই পুত্র নোমান এবং কিশোর বক্কর কে আমি ঘটনাস্থলে দেখিনি।ঘটনা হয়েছে যে,তাদের আপন চাচাতো ভাইদের মধ্যে আমি স্বচক্ষে দেখেছি কিন্তু নিহত শফিউল্লাহর পরিবার শফিউল্লাহর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে নিরীহ প্রতিবেশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কামাল এর পরিবার কে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে,সরজমিনে এসে সঠিক যাচাই-বাছাই করার জন্য।
প্রত্যক্ষদর্শী শাকের আলম নামের আরেক ব্যাক্তি জানান,তাদের আপন চাচাতো ভাইদের মারামারির সময় ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম,যদি আমি না থাকতাম আরও ৩/৪ টা খুন হতো।আমি তাদের আপন চাচাতো ভাইদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র দা কিরিস কেড়ে নিয়েছি কিন্তু ঘটনার সময় নিরীহ প্রতিবেশী বিএনপি নেতা কামাল এবং তাঁর দুই পুত্র মো.নোমান এবং আবুবক্কর কে দেখেনি।প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত কামনা করছি।
ভুক্তভোগী নিরীহ বিএনপি নেতা কামাল এর পরিবারের দাবি,হাফেজ মোক্তার আহমদের পরিবারের সাথে তার আপন ভাই মাওলানা জহির আহমেদের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো।এই ঘটনা কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।ঘটনার সাথে তাঁদের পরিবারের সদস্য বিএনপি নেতা কামাল, তাদের দুই পুত্র আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং আবু বক্করের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।এমনকি সংঘর্ষের সময় তারা ঘটনাস্থলেও উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু আমারা প্রতিবেশী হওয়ায় পরিকল্পিত ভাবে আমাদের পরিবারকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।আমি এর সঠিক বিচার কামনা করছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ মেম্বার স্থানীয়দের বরাতে বলেন,জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।এ সময় শফিউল্লাহর আপন চাচাতো ভাই ইসহাকের স্ত্রী আসমা আক্তারের কাঠের তক্তা দিয়ে শফিউল্লাহর মাথায় আঘাত করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় আনা হোক, সুষ্ঠু তদন্তের সাপেক্ষে নিরীহ লোকদেরকে আসামি না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে।
All rights reserved © 2025 Teknaf24.Com
Developed By: Azad Web IT