ইয়াবার ছোঁয়ায় বেপরোয়া একাধিক মামলার আসামি হ্নীলার হামিদ এখনো অধরা
জসিম উদ্দিন টিপু,টেকনাফ প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম মাদক প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ইয়াবা পাচারের কারণে এই এলাকা বারবার আলোচনায় এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার এবং বিভিন্ন সময় পাচারকারীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলেও মাদক কারবার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন ব্যক্তির নাম সামনে আসছে, যারা দ্রুত অর্থের লোভে জড়িয়ে পড়ছে এই অবৈধ ব্যবসায়।
জানাগেছে, এমনই একজন যুবক হলো হামিদ।যিনি অল্প বয়সেই ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এবং বর্তমানে এলাকায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামিদ টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা এলাকার বাসিন্দা সালেহ আহমদের ছেলে। কয়েক বছর আগেও ছিলেন এলাকার একজন সাধারণ কিশোর। পরিবার ও সমাজের অন্যদের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। কিন্তু কিশোর বয়স পার হওয়ার পর থেকেই তার চলাফেরা ও জীবনযাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। হঠাৎ করেই তার হাতে বিপুল অর্থের প্রবাহ শুরু হয় এবং সেই সঙ্গে বদলে যায় তার জীবনধারা। আগে যেখানে সাধারণ পোশাক আর সাদামাটা চলাফেরা ছিল, সেখানে অল্প সময়ের মধ্যেই দেখা যায় আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন, দামি পোশাক, নতুন মোটরসাইকেল এবং বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়ানোর পরই এমন বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে হামিদ।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় কিছু মাদক পাচারকারীর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমেই হামিদের এই জগতে প্রবেশ ঘটে। শুরুতে ছোটখাটো বাহক হিসেবে ইয়াবা পরিবহনের কাজে যুক্ত থাকলেও ধীরে ধীরে সে নিজেই এই ব্যবসার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। পাচারকারীরা বিভিন্ন সময় নদীপথ, পাহাড়ি পথ কিংবা স্থানীয় লোকজনকে ব্যবহার করে ইয়াবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়। স্থানীয়দের দাবি, হামিদও এমন একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চক্রের একটি সক্রিয় সদস্যে পরিণত হয়।
দ্রুত অর্থ উপার্জনের সুযোগ পেয়ে হামিদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অল্প সময়ের মধ্যেই সে বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। বাহিনী তৈরি করে অনেক সময় রাতের বেলায় এলাকায় ঘুরাফেরা করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং নিজের প্রভাবের জানান দেয় । তবে ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে এসব বিষয়ে কথা বলতে চান না। কারণ মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কথা বললে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইয়াবা কারবারকে কেন্দ্র করে এলাকায় তার প্রভাব বাড়তে থাকে এবং ধীরে ধীরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠতে শুরু করে। হত্যাসহ মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার আসামি হয়েও এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে এবং থামছে না বেপরোয়া জীবন যাপন। মামলা ওয়ারেন্ট থাকা সত্যেও দেখছে না প্রশাসন। তার একাধিক মামলার তথ্য প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।যারমধ্যে,টেকনাফ থানার মাদক মামলা নং-১৭ জিআর নং-১৩৪,টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা নং-৭১/৮২২ যার চার্জশীট নং -৩৫৮, আরেকটি হত্যা মামলার টেকনাফ থানার নং-৭২/৮২৩ ও চার্জশীট নং-৩৫৯। এছাড়াও টেকনাফ থানায় হামিদের বিরুদ্ধে আরো একাধিক মামলা রয়েছে।এতসব অভিযোগ ও মামলার পরও তাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে।স্থানীয়দের মতে, ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে অনেকেই ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছেন। কিন্তু হামিদের ক্ষেত্রে যেন ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। তার ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে থাকা অনেক সহযোগী কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে কারাগারে গেলেও হামিদ বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মাদক ব্যবসার পেছনে বড় কোনো নেটওয়ার্ক কাজ করছে, যার কারণে মূল ব্যক্তিরা অনেক সময় আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।জাদিমোরা এলাকাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে বর্তমানে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে স্থানীয়দের সূত্রে। তারা বলছেন, মাদক কারবার এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় অস্থিরতা বাড়ছে এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অনেক অভিভাবকই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দ্রুত অর্থের লোভে এলাকার কিছু তরুণ বিপথে চলে যাচ্ছে। এতে করে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সচেতন মহলের ভাষ্য,একজন ব্যক্তি যখন দ্রুত অর্থের লোভে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার প্রভাব শুধু তার নিজের জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো সমাজকে প্রভাবিত করে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, হামিদ নামের এই যুবকও তেমনই একটি পরিস্থিতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো তরুণ সহজে অপরাধের পথে পা না বাড়ায় এবং সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার কথা স্বীকার করলেও ইয়াবা কারবারে জড়িত নয় বলে জানান এবং দাম্ভিকতার সুরে প্রতিবেদক বলেন,শত শত নিউজ করলেও কিছু হবে না।
All rights reserved © 2025 Teknaf24.Com
Developed By: Azad Web IT