কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা বিএনপির বিতর্কিত নেতা আরফাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে মাছ লুটের অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় টেকনাফে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারী) বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফের শাপলা চত্বর মোড়ে টেকনাফে কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম বাঁধনের সঞ্চালনায় আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সময়ের কণ্ঠস্বর পত্রিকার টেকনাফ প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন (ভুলু), দৈনিক কক্সবাজার প্রতিদিন-এর সহকারী সম্পাদক মোহাম্মদ ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল হক, দৈনিক সমকাল-এর প্রতিনিধি আব্দুর রহমান, প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইউনুছ (অভি), কালের কণ্ঠ-এর মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি রহমত উল্লাহ, দৈনিক আজকালের খবর-এর প্রতিনিধি ফারুকুর রহমান, আজকের বাংলা-এর প্রতিনিধি ফারুক আলম তোফায়েল, দৈনিক কক্সবাজার প্রতিদিন-এর প্রতিনিধি তোফায়েল বিন আজাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিক তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেছেন। সেই সংবাদ প্রকাশের জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গুরুতর হুমকি। এ ধরনের মামলা শুধু একজন সাংবাদিককে নয়, পুরো গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি দেখানোর অপচেষ্টা।
তারা অবিলম্বে দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক সকালের কক্সবাজার পত্রিকার প্রতিবেদক শাহেদ ফেরদৌস হিরুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শাহেদ ফেরদৌস হিরুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন আরফাত চৌধুরী
এর আগে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের সোনারপাড়া পয়েন্ট এলাকায় মাছ লুটের একটি ঘটনার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ীর দাবি, আরফাত চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তার মালিকানাধীন ১২২ বস্তা মাছ জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে ১০০ বস্তা মাছ ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ২২ বস্তা মাছ এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, মাছ ফেরতের বিনিময়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ‘লেবার খরচ’ বাবদ ২ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আরও অভিযোগ করেন, মাছ ফেরতের দাবি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সংবাদ প্রকাশের পর তাকে জিম্মি করে অভিযুক্তদের পক্ষে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কক্সবাজার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও কক্সবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটি গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনের নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, সত্য ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
তারা অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
All rights reserved © 2025 Teknaf24.Com
Developed By: Azad Web IT