ইব্রাহীম মাহমুদ,টেকনাফ
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীর আস্তানা থেকে ৬ জিম্মি উদ্ধার,অস্ত্র-গুলিসহ মানবপাচারকারীর ১সক্রিয় সদস্য কে আটক করেছে বিজিবি। এসময় কৌশলে পালিয়ে গেলো ৮ মানবপাচারকারী।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে.কর্নেল আশিকুর রহমান মঙ্গলবার (২১অক্টোবর)
বিকাল ৫ টার দিকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজিবি জানান,সীমান্ত সুরক্ষা,মাদক ও মানব পাচারের অভিশাপ থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদা জাগ্রত ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।টেকনাফ সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখতে,বিশেষত মাদক,অপহরণ ও মানব পাচার প্রতিরোধে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) সর্বদা তৎপরতা রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ (২১ অক্টোবর) মঙ্গলবার ভোর বেলায় টেকনাফ (২বিজিবি)র অর্ধশতাধিক সদস্যের একটি বিশেষ আভিযানিক দল দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা মানব পাচারকারী চক্রের মূল ডেরায় এক দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে শুধু অপরাধীদেরই ধরা হয়নি, বরং অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে পাচারকারীদের হাতে বন্দি থাকা ৬ জন নিরীহ ভুক্তভোগীকেও। এই অভাবনীয় আভিযানিক সাফল্য মানব পাচারকারীদের উদ্দেশ্যে বিজিবির পক্ষ থেকে এক বজ্রকঠোর বার্তা-দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি অটল এবং অপরাধীদের জন্য এই পবিত্র ভূমিতে এক ইঞ্চি জায়গাও নিরাপদ নয়।
দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২বিজিবি) মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে নিরলসভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ তদন্ত এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত (২১সেপ্টেম্বর) থেকে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৩ জন পাচারকারী আটক হয় এবং ৮৪ জন ভুক্তভোগীকে মুক্ত করা সম্ভব হয়। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রগুলোর গোপন আস্তানা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য উদ্ঘাটিত হয়।এছাড়াও,সর্বশেষ,
প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া করাচিপাড়া এলাকার গহীন পাহাড়ে একটি মানব পাচারকারী চক্র মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে রেখেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বিশেষ অভিযানের বিশদ পরিকল্পনা সাজান। পরিকল্পনা অনুযায়ী,
আজ (২১ অক্টোবর) মঙ্গলবার গভীর রাতে টেকনাফ সদরের রাজারছড়া করাচিপাড়া এলাকার দুস্তর গিরিপথে শুরু হয় বিজিবির রুদ্ধশ্বাস চিরুনি অভিযান। বিজিবি সদস্যদের আকস্মিক উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পাহাড়ে গা-ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করলে, অভিযানকারী দল পাহাড়টিকে নিশ্ছিদ্র বেষ্টনীতে ঘিরে ফেলে কৌশলে ওপরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। প্রায় ৬ ঘণ্টাব্যাপী এই টানা অভিযানে বিজিবি সদস্যরা সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও দৃঢ় মনোবলের এক অনন্য নজির স্থাপন করে ১জন পাচারকারীকে আটক করে ও ৬ জন ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন এবং পর্যায়ক্রমে গহীন পাহাড়ে পাচারকারীদের গোপন আস্তানা হতে ৩টি ওয়ান শুটার গান,১টি একনলা বন্দুক,
৫ রাউন্ড তাজা গুলি (ওয়ান শুটার গানের) ও
১রাউন্ড তাজা গুলি (একনলা বন্দুকের)
এবং ২টি দেশীয় চাকু উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত করেছে যে,তাদেরকে অপরাধীদের কয়েকজন দোসর তাদেরকে লোভনীয় পারিশ্রমিকের কাজ দেয়া অথবা বিদেশে কর্মসংস্থানের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে এসে মাথাপিছু ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে এই সশস্ত্র পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। অপরাধীরা সশস্ত্র প্রহরায় তাদেরকে পাহাড়ে আটকে রেখে গত এক সপ্তাহ ধরে মুক্তিপণ দাবি ও ভয়ংকর নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত এই সফল অভিযানটির মাধ্যমে টেকনাফের চূড়া থেকে মোট
৬ জন ভুক্তভোগীকে এই নির্মম পাচারকারীদের কবল থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আটক পাচারকারী ও উদ্ধারকৃত সকল আলামত যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে আটক পাচারকারী হলেন,টেকনাফ সদরের করাচী পাড়ার মোঃ হোছন এর পুত্র মোঃ রুবেল (২১)।
কৌশলে পালিয়ে যাওয়া মানবপাচারকারীরা হলেন,
একই এলাকার মোঃ হোছন এর পুত্র আব্দুল্লাহ (২৬)।
মোঃ হোছন এর পুত্র রিয়াজ (৩০),
মৃত আব্দুল জব্বার এর পুত্র মোঃ হোছন (৪৬),
মোঃ হোছন এর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম,
সোনা মিয়ার পুত্র রায়হান(২৪),
আব্দুর রশিদ এর পুত্র জয়নাল (২৪),
মোহাম্মদ এর পুত্র আব্দুল্লাহ (২৫)
বরইতলী এলাকার মাহাতশাহ মাঝির পুত্র
সিরাজ (২৬)।
লে.কর্নেল আশিকুর রহমান আরও জানান, মানবপাচার রোধে বিজিবি গোয়েন্দার নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যারা পালিয়ে গেছে, তাদের গ্রেপ্তারের জন্য তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
All rights reserved © 2025 Teknaf24.Com
Developed By: Azad Web IT